বৃহস্পতিবার; 08 অক্টোবর 2026 আর্কাইভ
CampusLenzBD
বৃহস্পতিবার; 08 অক্টোবর 2026 | আর্কাইভ
শিক্ষাঙ্গন

প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও কুবিতে নেই ডে-কেয়ার সেন্টার

প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও কুবিতে নেই ডে-কেয়ার সেন্টার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
এতে ক্লাস-পরীক্ষা ও নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমে মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০০৬ সালে কুমিল্লার ঐতিহাসিক শালবন বিহারের পাশে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। সময়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর ও কার্যক্রম বিস্তৃত হলেও শিশুদের নিরাপদ যত্নের জন্য এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে সন্তানদের কখনো বাসায় রেখে, কখনো সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে এসে একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে অনেক মাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ সময়ের ক্লাস বা পরীক্ষার সময় শিশুদের দেখাশোনার বিষয়টি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারে সহায়তার সুযোগ না থাকলে অনেককে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে হয়। এতে একদিকে যেমন শিশুর নিয়মিত খাবার ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, অন্যদিকে মায়েরাও ক্লাস ও অন্যান্য কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের কল্যাণে ডে-কেয়ার সেন্টার না থাকা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। একজন কর্মজীবী মায়ের জন্য এটি মাতৃত্ব ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে শিশুর যত্নের নিশ্চয়তা, কর্মদক্ষতা ও মানসিক স্বস্তি বাড়ানোর পাশাপাশি পরোক্ষভাবে পেশাগত অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে নানাদিক থেকে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ডে-কেয়ারকে সুযোগ নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। আশা করি, বর্তমান প্রশাসন অতি শিগগিরই একটি স্বাস্থ্যকর ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেবে এবং নারী-বান্ধব শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ তৈরিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’

লোক-প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কামরুন্নেছা নুসরাত বলেন, ‘দীর্ঘ সময়ের ক্লাস হলে শিশুকে বাসায় রেখে আসা সম্ভব হয় না। আবার ক্যাম্পাস দূরে হওয়ায় পরিবারের সদস্যদেরও সবসময় সঙ্গে রাখা সম্ভব হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আসতে হয়। এতে শিশুর খাবার ও ঘুমের সময় ঠিক থাকে না, আর ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে মা ও শিশু দুজনেরই মানসিক চাপ বাড়ে।’

তিনি বলেন, ‘আমার পরিচিত কয়েকজন শিক্ষার্থী সন্তান সামলানোর কারণে নিয়মিত ক্লাস করতে পারেন না। এতে তাদের উপস্থিতি নিয়েও সমস্যায় পড়তে হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি যদি ডে-কেয়ারে কেয়ারটেকারের ব্যবস্থা থাকত, তাহলে মায়েদের ভোগান্তি অনেকটাই কমত। সন্তানের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এখন অনেক মায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’

একই বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে হাবিনা স্মৃতি বলেন, ‘ডে-কেয়ার থাকলে মায়েরা নিশ্চিন্তে সন্তানকে সেখানে রেখে ক্লাস করতে পারতেন। শিশুকে সময়মতো খাবার খাওয়ানো ও প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়াও সম্ভব হতো। বিশেষ করে যাদের পারিবারিক সহায়তা কম, তাদের জন্য ডে-কেয়ার একটি বড় সহায়তা হতে পারে।’

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জাহান আল আভি বলেন, ‘আমাকে সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই ক্লাস করতে হয়েছে। এমনও হয়েছে, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা ক্লাস চলেছে, তখনও সন্তানকে সঙ্গে রাখতে হয়েছে। ক্লাসের মাঝে কোনো বিরতি থাকলে সিঁড়িতে বসেই সময় কাটাতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সন্তানকে খাওয়ানোর প্রয়োজন হলেও ক্যাম্পাসে কোনো ডে-কেয়ার বা ব্রেস্টফিডিং কর্নার ছিল না। প্রথম বর্ষ থেকে প্রায় ২০২১ সাল থেকেই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ক্লাস করছি, কিন্তু কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাইনি। ৬০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে হয়েছে। বাসা দূরে হওয়ায় যাতায়াতের সমস্যাও মোকাবিলা করতে হয়েছে। গর্ভাবস্থায় মাতৃত্বকালীন ছুটি কিংবা সন্তান জন্মের পর উপস্থিতির ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ সুবিধা না থাকায় অসুস্থ অবস্থাতেও ক্লাসে উপস্থিত হতে হয়েছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীন বলেন, ‘আমরা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্পেস তৈরি করে দেব। বিবিএ ফ্যাকাল্টির পেছনের জায়গায় বিভিন্ন সুবিধাসম্পন্ন একটি ফিমেল কর্নার তৈরি করা হবে। সেখানে তারা বিশ্রাম নিতে পারবেন, ফ্রেশ হতে পারবেন। নামাজের জায়গা, স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুম ও ব্রেস্টফিডিং কর্নারের ব্যবস্থাও থাকবে। তবে আপাতত ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর কোনো পরিকল্পনা নেই।’

দুই দশকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও একাডেমিক কার্যক্রম বিস্তৃত হলেও নারী শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক শিশু-যত্নের ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি।

সম্পর্কিত খবর

আগের নিয়মেই ফিরছে ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষা, নতুন সিলেবাস প্রকাশ education

আগের নিয়মেই ফিরছে ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষা, নতুন সিলেবাস প্রকাশ

প্রতিবেদক: সংগৃহীত

২০২৭ সালের ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিলেবাসে লিখিত পরীক্ষার নম্বর ৩০০ থেকে কমিয়ে ২০০ করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন পর আবারও ২০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষার পুরোনো কাঠামোয় ফিরছে ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষা।

বিইউএফটিতে জাতীয় উদ্যোক্তা মেলা ২০২৬ education

বিইউএফটিতে জাতীয় উদ্যোক্তা মেলা ২০২৬

প্রতিবেদক: সংগৃহীত

বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিতে ৭ অক্টোবর শুরু হয়েছে ‘বিইউএফটি জাতীয় উদ্যোক্তা মেলা ২০২৬ (৩.০)’। উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ব্যবসায়িক সমাধানকে উৎসাহিত করতে আয়োজিত এ মেলায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, উদ্যোক্তা ও শিল্প খাতের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। বিইউএফটি বিজনেস ক্লাবের আয়োজনে এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী এ মেলা ৭ ও ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

৫৬ দিনে ভিসি বদলে অচল চুয়েট, অনড় সরকার কাজে লাগাতে চায় ডুয়েটের অভিজ্ঞতা education

৫৬ দিনে ভিসি বদলে অচল চুয়েট, অনড় সরকার কাজে লাগাতে চায় ডুয়েটের অভিজ্ঞতা

প্রতিবেদক: সংগৃহীত

মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অচল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষা। ফাঁকা পড়ে আছে শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবরেটরি। কবে নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ফিরবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এতে সেশনজটের শঙ্কায় পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ বিভাগের ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এরই মধ্যে ক্যাম্পাসের আন্দোলন গড়িয়েছে চট্টগ্রাম শহরেও। সবশেষ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। যদিও আন্দোলনে ২৩ ব্যাচের কোনো শিক্ষার্থী নেই। তারা পরীক্ষা শেষে বাড়ি চলে গেছেন। ২৪ ব্যাচের কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলনে রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন স্থায়ী সনদপ্রাপ্ত পাঁচ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থী education

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন স্থায়ী সনদপ্রাপ্ত পাঁচ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থী

প্রতিবেদক: সংগৃহীত

সাড়ে ৬ বছর পর একসঙ্গে তিন সেশনের জন্য প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি)। ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালের দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬৯ জন শিক্ষার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।